কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ: ইতিহাস আর প্রকৃতির মিশেলে এক প্রতিষ্ঠান

কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ: ইতিহাস আর প্রকৃতির মিশেলে এক প্রতিষ্ঠান

  • ক্যাডেট কলেজ পরিচিতি
ফাহিম শাহরিয়ার

ফাহিম শাহরিয়ার

September 16, 2026

ভূমিকা

কুমিল্লা শহরের অদূরে কোটবাড়িতে, লালমাই পাহাড়ের কোলে ঐতিহাসিক শালবন বিহারের নিকটে অবস্থিত কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ (CCC)। ইতিহাস আর প্রকৃতির এক অনন্য মিশেলে গড়ে ওঠা এই কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য এক অসাধারণ পরিবেশ তৈরি করেছে।

ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠা

মূলত ১৯৬৬-৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত "কুমিল্লা রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুল" থেকে রূপান্তরিত হয়ে ১৯৮৩ সালের ১ জুলাই কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজের জন্ম হয়। প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ লে. কর্নেল নুরুল আনোয়ারের নেতৃত্বে প্রায় ৯ মাসের মধ্যে ক্যাম্পাসকে মানসম্মত করে গড়ে তোলা হয়। ১৯৮৪ সালের ৭ এপ্রিল ১৫০ জন ক্যাডেট নিয়ে কলেজটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়, এবং সে বছরই ধাপে ধাপে পূর্ণ ৩০০ জন ক্যাডেটের আসন পূরণ হয়। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রতিষ্ঠিত ক্যাডেট কলেজগুলোর মধ্যে এটিই সর্বশেষ ছিল, ফেনী ও জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত।

অবস্থান ও ক্যাম্পাস

কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে কোটবাড়িতে, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (BARD) এবং ঐতিহাসিক শালবন বিহারের নিকটে অবস্থিত এই কলেজের ক্যাম্পাস প্রায় ৫২ একর জমির উপর গড়ে উঠেছে।

শিক্ষা কার্যক্রম ও ফলাফল

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত এই কলেজ স্বল্প ইতিহাসের মধ্যেই অসাধারণ একাডেমিক সাফল্য অর্জন করেছে। কোনো কোনো বছর একই সাথে ১৫টিরও বেশি জাতীয় শীর্ষস্থান দখল করেছে এই কলেজের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া অনেক প্রাক্তন ক্যাডেট সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হয়ে "সোর্ড অব অনার" বা "ওসমানী স্বর্ণপদক"-এর মতো সম্মাননা অর্জন করেছেন।

সহশিক্ষা কার্যক্রম ও ঐতিহ্য

কলেজের মূলমন্ত্র "জ্ঞানই আলো" (Knowledge Is Light)। স্কাই ব্লু রঙ এই কলেজের প্রতীক। নিয়মিত খেলাধুলা, পিটি-প্যারেড, বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে এখানকার ক্যাডেটদের সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করা হয়।

ভর্তি প্রক্রিয়া

জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে সপ্তম শ্রেণিতে ক্যাডেট নির্বাচন করা হয়, যেখানে লিখিত, মৌখিক ও মেডিকেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।

উপসংহার

স্বল্প ইতিহাস সত্ত্বেও কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ তার একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব ও ঐতিহাসিক পরিবেশের কারণে দেশের অন্যতম শ্রদ্ধেয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।


তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া এবং কলেজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (ccc.army.mil.bd)

← সব আর্টিকেল পড়ুন